RezwanAhmed & His Team || Software Engineer

Bangladesh and Recent Traffic System | বাংলাদেশ আর ট্রাফিক জ্যাম

১।

এমনই এক শহরে আমরা বাস করি, যেখানে প্রকৃতির সবুজ আর গাছের সবুজ পাতার দেখা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিনের জ্যাম আর যানজটে আমরা চরম বিরক্ত, তারপরও আমরা নির্বাক নীরব জাতি। আর এমন বিরক্তিকর যানজট পার হয়ে বাসায় সুস্থভাবে আসতে পারাটা বড় সৌভাগ্যের বিষয়। কারন, বর্তমান সময়ে যে পরিমান যানজট হচ্ছে, তাতে যে কেউ অসুস্থ হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক।
আবার, বলা হচ্ছে – ঢাকার এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত আর উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে ঢাকার আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার জুড়ে পাতাল মেট্রোরেল নির্মিত হবে। তার মানে – আগামীতে ঢাকা বাসীকে আবার নতুন করে যানজটের সাথে হাত মিলেয়ে চলতে হবে।

এভাবেই, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাবাসীর সময় নষ্ট করছে, সাথে শ্রম, অর্থ ২ – ই ।

২।

বাংলাদেশ এমন একটা দেশ – যে দেশে বাসে চলন্ত অবস্থায় যাত্রী উঠানামা করানো হয়ে থাকে, তার উপর যত্রতত্র জায়গায় বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হয়। আর বাস কোম্পানিগুলোর উপর সরকারের নাই কোন জবাবদিহিতা আর নিয়ন্ত্রন । আবার, নিয়ম নীতি না মেনে প্রধান সড়ক আর হইওয়ে রাস্তায় প্রতিযোগিতা মুলক ভাবে বাস চালায়, যার ফলে এই পর্যন্ত অনেক যাত্রী আর পথচারীর প্রান চলে গেছে ।

আবার সরকারের এক শ্রেণীর আমলা আর শ্রমিক সমিতির প্রধান নেতা এভাবে বেপোরায় গতিতে বাস চালানোর দায়ে যাত্রীর মৃত্যু ঘটলেও ফাঁসির বিধান না রাখার সুপারিশে আজকের বাংলাদেশে বাস সমিতি, বাস মালিক আর শেষে চালকরা প্রশ্রয়ে পেয়ে গেছে যত্রতত্র জায়গায় বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো, পাশাপাশি ঠাণ্ডা মাথায় পথচারী আর যাত্রী খুন করছে।

আর তারই ফল – আজকের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমানের অকাল মৃত্যু । সাইদুর দৌড়ে এসে বাসে উঠতে গিয়ে নাকেমুখে আঘাত পান। রক্ত বের হতে থাকে। আহত যাত্রীকে চিকিৎসা দেওয়ার বদলে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারী মিলে একটি সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেন।

আমরা জানি – এই হত্যার বিচার করতে পারবে না সরকার আর পুলিশ প্রশাসন। কারন আমাদের দেশের বাস মালিক কোম্পানিগুলো সরকার প্রধান আর পুলিশ থেকেও বেশি ক্ষমতাবান, তাদের অর্থের জোরও বেশি।

এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রানলয়ের প্রধানের ক্ষমতা নেই – এই বাস কোম্পানির বাসচালক, চালকের সহকারী ও সুপারভাইজারকে ফাঁসিতে ঝুলাতে।

৩।

এখন রাজনৈতিক বা অন্য প্রভাব খাটিয়ে ঢাকায় একটার পর একটা বাস কোম্পানি তৈরি হচ্ছে। বাসমালিকেরা আত্মীয়-পরিজন যাকে পাচ্ছে, তাকেই স্টিয়ারিংয়ে বসিয়ে দিচ্ছেন। এসব চালকের বেশির ভাগই নেশাগ্রস্ত। কেউ কেউ তো গাড়ি চলন্ত অবস্থায়ও গাঁজা খাচ্ছে।
— ঢাকা-রাজশাহী পথে ৩০ বছর ধরে দূরপাল্লার বাস চালক – জাহাঙ্গীর আলম

আর কত তাজা প্রান ঝরাতে পারলে বাস – মালিকদের আত্মা পরিশোধিত হবে। আর এক মন্ত্রনালয়ের প্রধান বলেছে – ভারতেও এ ধরণের দুর্ঘটনা হয় কিন্তু কেউ এ নিয়ে এতো উচ্চবাচ্য করেনা …..
বাংলাদেশ ভারতের পা চাঁটা গোলাম হয়ে গেছে । ভারত ছাড়া চলতে পারে না।

আমরা জানি – এই পর্যন্ত বাস চালদের দ্বারা এসব পরিকল্পিত হত্যার বিচার করতে পারবে না সরকার আর পুলিশ প্রশাসন। কারন আমাদের দেশের বাস মালিক কোম্পানিগুলো সরকার প্রধান আর পুলিশ থেকেও বেশি ক্ষমতাবান

বাংলাদেশের সব তরুন সমাজ,  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বিশ্ববিদ্যালয়ের একসাথে জেগে উঠতে হবে – এসব বাস মালিকদের বিরুদ্ধে। ক্ষমতাসীনরাই যদি এসবের বিরুদ্ধে অ্যাকশন না নিতে পারে, তাহলে ভোটের বাজারে আসল মারটা খাবে জনগণের হাতে ।

Advertisements

Suggestion ::

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.